নামাজ

1828

ইমামতি ও ইমামের ইকতিদা

যে ইমামতি করার অধিক হকদার

এ ক্ষেত্রে তরতীব হলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: আল্লাহর কিতাব অধিক পাঠকারী: অর্থাৎ যে ব্যক্তির অধিক কুরআন মুখস্থ আছে এবং কুরআনের হুকুম-আহকাম বিষয়ে অধিক অধিক সমঝদার।

দ্বিতীয়ত: সুন্নতে নববী সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী: অর্থাৎ যে সুন্নতে নববীর হুকুম আহকাম, অর্থ ও ভাব সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী।

তৃতীয়ত: হিজরতের ক্ষেত্রে অগ্রগামী: অর্থাৎ যে ব্যক্তি দারুল কুফর থেকে দারুল ইসলামে অন্যদের তুলনায় আগে হিজরত করেছে। আর যদি হিজরত না থাকে তাহলে যে ব্যক্তি তাওবা ও গুনাহ পরিত্যাগের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় আগে।

চতুর্থত: অন্যদের তুলনায় বয়সে যিনি বড়: যদি উল্লিখিত বিষয়ের ক্ষেত্রে সবাই সমান হয় সেক্ষেত্রে এ বিষয়টি প্রযোজ্য।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব অধিক পাঠকারী সে মানুষের ইমামতি করবে। যদি আল্লাহর কিতাব অধিক পাঠের ক্ষেত্রে মানুষ সমান হয়, তাহলে যে ব্যক্তি সুন্নত সম্পর্কে বেশি জ্ঞানী। আর যদি সুন্নতের ক্ষেত্রে সবাই সমান হয়, তাহলে যে হিজরতের ক্ষেত্রে অধিক পুরাতন। আর যদি হিজরতের ক্ষেত্রে সবাই সমান হয়, তাহলে ইসলামের ক্ষেত্রে যে অধিক পুরাতন।»(বর্ণনায় মুসলিম)

মসজিদে ইমাম নিয়োগের সময় অথবা যে মসজিদের সুনির্দিষ্ট কোনো ইমাম নেই সে মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ পড়ার সময় এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। পক্ষান্তরে যদি ইমামতির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো লোক থাকে, অথবা বাড়ির মালিক ইমাম হন, কর্ণধার ব্যক্তি তার অধীনস্থদের ইমাম হন, এ ক্ষেত্রে তাকেই ইমামতির জন্য এগিয়ে দিতে হবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «অধিপতি ব্যক্তির অধীনস্থ কেউ যেন তার ইমামতি করতে না যায়, আর বাড়ির মালিকের অনুমতি ব্যতীত কেউ যেন বসার জন্য তৈরি করে রাখা জায়গায় না বসে।»(বর্ণনায় বুখারী)

ইমাম ও মুকতাদীর দাঁড়ানোর স্থান

১-মুকতাদী একজন হলে: ইমামের বরাবর ডানে দাঁড়াবে। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন,,«আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক রাতে নামাজ পড়েছি, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বামে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেছন দিক থেকে আমার মাথা ধরে তাঁর ডানে এনে দাঁড় করালেন।»(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

২-জামাত যদি দুজন বা দুজনের অধিক লোকের হয়, তাহলে ইমাম তাদের সম্মুখে ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়াবে। এর প্রমাণ জাবের ও জিবার রাযি. এর হাদীস যে, তাদের দুজনের একজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ডানে অন্যজন বামে দাঁড়ালেন। জাবের রাযি. বলেন,«অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের দুজনের হাত ধরে পেছনে সরিয়ে দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলেন।»
(বর্ণনায় মুসলিম)

নামাজে নারীদের দাঁড়ানোর পদ্ধতি

১- শুধু নারীরা যদি জামাতের সাথে নামাজ আদায় করে, তবে সুন্নত হলো তাদের ইমাম তাদের কাতারের মাঝেই দাঁড়াবে। সামনে দাঁড়াবে না।

২- নারী পুরুষের পেছনে দাঁড়াবে যদি পুরুষ নারীর ইমাম হয়। আর যদি পুরুষদের জামাতের সাথে নামাজ আদায় করে তবে পুরুষদের কাতারের পেছনে দাঁড়াবে।

৩- যদি একদল নারী পুরুষদের জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতে যায়, তবে সুন্নত হলো নারীরা পুরুষদের থেকে দূরুত্বে পেছনে, পুরুষদের কাতারের মতোই কাতার করে দাঁড়াবে। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিও ওয়া সাল্লাম বলেন,«নারীদের সর্বোত্তম কাতার হলো শেষ কাতার এবং নিকৃষ্টতম কাতার হলো প্রথম কাতার।»
(বর্ণনায় ইবনে মাজাহ)

ইমামের পিছনে ইকতিদা করা বিষয়ক কিছু আহকাম

১- ঘর থেকে মাইকের আওয়াজ শুনে বা রেডিও টেলিভিশনে সম্প্রচারিত নামাজের ইমামের সাথে ইকতিদা করে নামাজ আদায় করা শুদ্ধ নয়।

২- মসজিদের বাইরে থেকে ইমামের ইকতিদা করা শুদ্ধ হবে যদি কাতার সংযুক্ত থাকে।

৩- মসজিদের ছাদে অথবা ইমামের দাঁড়ানোর স্তর থেকে নিচে নামাজ পড়া বৈধ রয়েছে, যদি ইমামের আওয়াজ শোনা যায়।

৪- নফল নামাজ আদায়কারীর পেছনে ফরয নামাজ আদায়কারীর ইকতিদা করা শুদ্ধ নয়। তবে এর উল্টোটা শুদ্ধ
|(বর্ণনায় বুখারী)

ইমামের পূর্বে কোনোকিছু করে ফেলা।

১- মুকতাদীর উচিত ইমামের অনুকরণ করা। অর্থাৎ ইমাম যখন কোনো কিছু করবে এর অব্যবহিত পরেই মুকতাদী তা করবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,«ইমাম এ জন্য রাখা হয়েছে যে মানুষ তার অনুকরণ করবে। অতঃপর সে যখন তাকবীর দেবে তখন তোমরাও তাকবীর দাও। যখন রুকু করবে তোমরাও রুকু করো। যখন সিজদা করবে তোমরাও সিজদা করো।»
[বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম]

২- ইমামের পূর্বে কোনোকিছু করে ফেলা হারাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জোর দিয়ে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন,«তোমাদের কেউ কি আশঙ্কা করে না যে, সে যখন ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেলবে, আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথায় পরিণত করবেন, অথবা তার আকৃতিকে গাধার আকৃতিতে রূপান্তরিত করবেন?»

(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

অজুবিহীন ব্যক্তির পেছনে নামাজ

অজুবিহীন ব্যক্তির পেছনে নামাজ পড়া শুদ্ধ নয়। কিন্তু যদি এ ব্যাপারে নামাজ শেষ হওয়ার পর জানা যায়, তবে মুকতাদীর নামাজ শুদ্ধ হয়েছে বলে ধরা হবে। তবে ইমামকে পুনরায় তার নামাজ আদায় করে নিতে হবে।