নামাজ

1308

সিজদায়ে সাহু, সিজদায়ে তিলাওয়াত ও সিজদায়ে শোকর

প্রথমত: সিজদায়ে সাহু

সিজদায়ে সাহু

ভুলের কারণে নামাজে যে ত্রুটি সৃষ্টি হয়েছে তা শুধরানোর জন্য মুসল্লী কর্তৃক প্রদত্ত দুই সিজদাকেই সিজদায়ে সাহু বলে।

সিজদায়ে সাহুর কারণ

- যে ব্যক্তি নামাজের ওয়াজিবসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিল সে গুনাহগার হলো এবং তার নামাজ নষ্ট হয়ে গেল। এমতাবস্থায় তাকে উক্ত নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে। নামাজের যেসব ত্রুটি সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে শুধরিয়ে নেয়া যায় তা হলো:

- ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাআতে বা এক রাকাআতে সূরা ফাতিহা পড়তে ভূলে যাওয়া। অনুরূপভাবে নফল নামাজ ও বিতরের নামাজের সকল রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়তে ভুলে যাওয়া।

- সূরা ফাতিহার পর ছোট একটি সূরা অথবা ছোট ছোট তিন আয়াত অথবা লম্বা একটি পরিমাণ ফরজ নামাজের প্রথম দু রাকাআতে এবং নফল ও বিতরের যেকোনো রাকাআতে পড়তে ভুলে যাওয়া।

- নামাজ ভেদে প্রকাশ্যে অথবা গোপনীয়ভাবে কিরাত পড়ার যে নিয়ম রয়েছে তা ভঙ্গ করা। অতএব যদি কোনো ইমাম যোহর আসরের নামাজে প্রকাশ্যে কিরাত পড়ে অথবা মাগরিব, এশা ও ফজরের কিরাত গোপনীয়ভাবে আদায় করে তবে সিজদায়ে সাহু দিয়ে নামাজের ত্রুটি শুধরিয়ে নিতে হবে।

- তিন রাকাআত অথবা চার রাকাআতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠক ভুলে যাওয়া।

- শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়তে ভুলে যাওয়া।

- একই রাকাতে যে বিষয়টি দুই বার করতে হয় তা আদায়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ভুলে যাওয়া। যেমন কোনো ব্যক্তি কেবল এক সিজদা আদায় করে দ্বিতীয় সিজদা আদায় করতে ভুলে গেল এবং দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে গেল। এরপর নামাজের শেষাংশে তা মনে পড়লে সিজদা করে নিল। এমতাবস্থায় ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হওয়ার কারণে তাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। আর যে বিষয়টির একই রাকাআতে পুনরাবৃত্তি ঘটে না, যেমন কোনো তাকবীরে তাহরিমার পর রুকুতে চলে গেল এবং রুকু থেকে উঠে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা তিলাওয়াত করল। এমতাবস্থায় পুনরায় তাকে রুকু করতে হবে এবং নামাজান্তে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। অনুরূপভাবে যথাসময়ে যদি তিলাওয়াতের সিজদা আদায় না করা হয় তবুও সিজদা সাহু দিতে হবে। আর নামাজের ফরজ কর্মসমূহ তার স্থান থেকে পিছিয়ে দেয়া অথবা একটার জায়গায় আরেকটা করা, যেমন যে সময়ে বসা উচিত তখন দাঁড়িয়ে গেল অথবা এর উল্টোটা করল, এমতাবস্থায় তাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।

- রুকু ও সিজদায় ধীর-স্থিরতা ছেড়ে দেয়া।

- ফরজ নামাজে কিরাত পড়ার যথার্থ নিয়ম ভঙ্গ করা। যেমন অন্য কোনো সূরা পড়ার পর সূরা ফাতিহা পড়া অথবা প্রথম দুই রাকাতে কিরাত না পড়ে শেষ দুই রাকাতে কিরাত পড়া। অথবা কেবল দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাআতে কিরাত পড়া। এমতাবস্থায় সিজদায়ে সাহু দেয়া ওয়াজিব হবে।

- দুআয়ে কুনূত পড়তে ভুলে যাওয়া।

- ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবীর ভুলে যাওয়া অথবা দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে যাওয়ার তাকবীর ভুলে যাওয়া।

সন্দেহ করা

সন্দেহ অর্থ দু বিষয়ের মধ্যে কোনটি করেছে তা নিয়ে ইতস্ততায় পড়া

- যদি প্রথম রাকাআতে তাশাহ্হুদ এর কোনো কিছু বাড়িয়ে পড়ে, যেমন ভুলে দরুদ পড়ে ফেলল অথবা একটি রুকন আদায় করা যায় পরিমাণ সময় চুপচাপ বসে রইল।

সন্দেহ করা

নামাজের ক্ষেত্রে দু ধরনের সন্দেহ হতে পারে:

১- নামাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর সন্দেহ করা

এ প্রকৃতির সন্দেহ হিসাবে আনা হবে না।

এর উদাহরণ: এক ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর, নামাজ কি দু রাকাত পড়ল না তিন রাকাত, এ নিয়ে সন্দেহ করল? এমতাবস্থায় এ সন্দেহের প্রতি নজর দেয়া হবে না। তবে যদি সন্দেহের স্থলে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়, তাহলে সে অনুযায়ী আমল করবে।

২- নামাজে থাকাবস্থায় সন্দেহ করা:

এ প্রকৃতির সন্দেহেরও দু অবস্থা।

ক- সন্দেহযুক্ত দু বিষয়ের কোনো একটি তার কাছে রাজেহ বা প্রাধান্যপ্রাপ্ত মনে হবে:

এরূপ হলে যা তার কাছে প্রাধান্যপ্রাপ্ত বলে মনে হবে, সে অনুযায়ী আমল করবে এবং নিয়মমাফিক সিজদায়ে সাহু দেবে।

এর উদাহরণ: যোহরের নামাজ পড়ার সময় কারও সন্দেহ হলো, সে কি দ্বিতীয় রাকাতে আছে না তৃতীয় রাকাতে। কিন্তু তার কাছে তৃতীয় রাকাতে থাকার ব্যাপারটাই প্রাধান্যপ্রাপ্ত হলো,

তাহলে এ রাকাতটিকে সে তৃতীয় রাকাত বলেই হিসেব করবে এবং নামাজ পূর্ণ করে নেবে। এরপর সিজদায়ে সাহু দেবে।

এর প্রমাণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস,«তোমাদের কারও যখন নামাজে সন্দেহ হবে, কোনটা সঠিক তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। এরপর সালাম ফেরাবে এবং দুটি সিজদা করবে।»(বর্ণনায় ইবনে হিব্বান)

খ-দুটির মধ্যে কোনোটিই তার কাছে প্রাধান্যপ্রাপ্ত বলে মনে হবে না:

এ ক্ষেত্রে যা কম তার উপর ভিত্তি করে নামাজ সম্পন্ন করবে এবং সিজদায়ে সাহু দেবে।

এর উদাহরণ: যোহরের নামাজ পড়ার সময় কারও সন্দেহ হলো, সে কি দ্বিতীয় রাকাতে আছে না তৃতীয় রাকাতে? কিন্তু দু বিষয়ের কোনোটিই তার কাছে প্রাধান্যপ্রাপ্ত বলে মনে হলো না। এমতাবস্থায় সে যা কম তার উপর ভিত্তি করবে। অর্থাৎ ধরে নেবে যে, সে দ্বিতীয় রাকাতে আছে। এরপর নামাজ শেষ করে সালামের পূর্বেই সিজদায়ে সাহু দেবে।

এর প্রমাণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস,«তোমাদের কেউ যখন নামাজে সন্দেহ করল, অতঃপর সে জানল না তিন রাকাত পড়েছে কি চার রাকাত। এমতাবস্থায় সে যেন সন্দেহ দূরে ফেলে যেটুকুর ব্যাপারে সে নিশ্চিত সেটুকুর উপর ভিত্তি করে নেয়। এরপর সালাম ফেরানোর পূর্বেই যেন সে দুটি সিজদা দিয়ে নেয়।»
(বর্ণনায় মুসলিম)

কোনোকিছু অতিরিক্ত করা

অর্থাৎ নামাজে কোনোকিছু অতিরিক্ত আকারে আদায় করা, যেমন অতিরিক্ত রুকু অথবা সিজদা ইত্যাদি।

এরূপ বাড়িয়ে দেয়ার দু অবস্থা হতে পারে:

ক- মুসল্লী যখন কোনোকিছু বাড়িয়ে আদায় করছে, বিষয়টি ঠিক সে মুহূর্তেই মনে করতে পারল।

এমতাবস্থায় ওই কাজ থেকে ফিরে আসা আবশ্যক হবে। এরপর সে নামাজ সম্পন্ন করে ডান দিকে এক সালামের পর সিজদায়ে সাহু দিবে।

এর উদাহরণ: এক ব্যক্তি যোহরের নামাজ পড়া অবস্থায় পঞ্চম রাকাতের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে গেল। এরপর সে তা রাকাতের ভিতরেই স্মরণ করতে পারল। এ অবস্থায় তার উচিত হবে সাথে সাথে বসে যাওয়া। নামাজ পূর্ণ করে নেয়া এবং নিয়ম মুতাবিক সিজদায়ে সাহু দেয়া।

খ- অতিরিক্ত কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর স্মরণ করতে পারা

এ অবস্থায় সে তার নামাজ সম্পন্ন করে নেবে। অতঃপর সালাম ফেরানোর পর সিজদায়ে সাহু দিয়ে নেবে।

এর দলিল, ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীস,হয়েছে?» তিনি বললেন,«তার মানে?» সাহাবী বললেন,«আপনি নামাজ পাঁচ রাকাত পড়েছেন।» এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফেরানোর পর দুটি সিজদা দিলেন।»(র্বণনায় বুখারী)

কোনোকিছু বাদ দেয়া

অর্থাৎ নামাজের কোনো ফরয বা ওয়াজিব বাদ দেয়া

১- নামাজের কোনো ফরয বাদ দেয়া

যদি এ ফরযকর্মটি তাকবীরে তাহরিমা হয়, তবে নামাজ বাতিল বলে গণ্য হবে; কেননা এ অবস্থায় নামাজ আদৌ শুরু হয়নি বলে ধরা হবে। আর যদি ফরযটি তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত অন্যকোনো ফরয হয়, তাহলে এর দু অবস্থা রয়েছে:

ক- মুসল্লী হয়তো পরবর্তী রাকাতে ঠিক ওই ফরযটির জায়গায় পৌঁছলে তা স্মরণ করতে পারবে।

এমতাবস্থায় যে রাকাত থেকে ফরযটি ছুটে গিয়েছে সে রাকাতটি বাতিল করে দিয়ে পরবর্তী রাকাতটি তার জায়গায় হিসাব করবে।

এর উদাহরণ: এক ব্যক্তি প্রথম রাকাতে রুকু করতে ভুলে গেল। দ্বিতীয় রাকাতে রুকু করার সময় তার স্মরণ হলো যে প্রথম রাকাতে সে রুকু করতে ভূলে গিয়েছে। তাহলে এ রাকাতকেই সে প্রথম রাকাত হিসেবে ধরবে। আর প্রথম রাকাতটি হিসাবে আনবে না। এরপর সে তার নামাজ পূরণ করে নেবে এবং সালামের পর সিজদায়ে সাহু দেবে।

খ- পরবর্তী রাকাতে ওই ফরযটির জায়গায় পৌঁছার পূর্বেই মুসল্লীর তা স্মরণ হবে।

এ অবস্থায় সে বাদ-পড়া ফরযকর্মটি আদায় করে নেবে এবং তার পরের অংশটুকুও আদায় করবে। এরপর সে তার নামাজ পূরণ করে নেবে এবং সালামের পর সিজদায়ে সাহু দেবে।

এর উদাহরণ: একটি ব্যক্তি প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় সিজদা এবং তার পূর্বে বসা ভুলে গেল। পরবর্তীতে সে তা দ্বিতীয় রাকাতের রুকু থেকে উঠার পর মনে করতে পারল। এমতাবস্থায় সে ফিরে আসবে, বসবে ও সিজদা করবে। এরপর সে তার নামাজ সম্পন্ন করবে এবং সালামের পর সিজদায়ে সাহু করবে।

২ - কোনো ওয়াজিবকর্ম বাদ দেয়া:

মুসল্লী যদি কোনো ওয়াজিব বাদ দেয়, তাহলে এর তিন অবস্থা হতে পারে:

ক-নামাজে এ ওয়াজিবকর্মটির জায়গা ছেড়ে যাওয়ার পূর্বেই তা স্মরণ হবে।

এমতাবস্থায় সে তা আদায় করে নেবে এবং এর জন্য সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।

খ-ওয়াজিবকর্মটির জায়গা ছেড়ে যাওয়ার পর তা স্মরণ হবে, এর অব্যবহিত পরের ফরয কর্মে যাওয়ার পূর্বেই।

এমতাবস্থায় সে ফিরে যাবে এবং তা আদায় করে নেবে। এরপর নামাজ সম্পন্ন করে সালামের পর সিজদায়ে সাহু করে নেবে।

গ-ওই ওয়াজিবকর্মের পরবর্তী যে ফরয কর্ম তাতে পৌঁছার পর বিষয়টি স্মরণ হবে।

এমতাবস্থায় মুসল্লী তার নামাজ চালিয়ে যাবে এবং ছুটে যাওয়া ওয়াজিবকর্মটি আদায় করতে যাবে না। পরিশেষে সে সিজদায়ে সাহু দিয়ে নেবে।

এর উদাহরণ: এক ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকাতে দ্বিতীয় সিজদা আদায়

সিজদায়ে সাহুর জায়গা

সালামের পূর্বে

সালামের পর

ক- কোনোকিছু বাদ দিলে

খ-সন্দেহের সময় দু বিষয়ের কোনো একটি প্রাধান্যপ্রাপ্ত না হলে।

ক- কোনোকিছু অতিরিক্ত আদায় করলে।

খ-সন্দেহের সময় দু বিষয়ের কোনো একটি প্রাধান্যপ্রাপ্ত হলে।

করার পর তাশাহ্হুদ না পড়েই দাঁড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম করল। কিন্তু দাঁড়ানোর পূর্বেই স্মরণ করতে পারল যে তাশাহ্হুদ পড়া বাদ পড়ে গেছে। এমতাবস্থায় সে বসে গিয়ে তাশাহ্হুদ পড়ে নেবে। বাকী নামাজ সম্পন্ন করবে এবং এ জন্য ক্ষতিপূরণমূলক কোনো কিছু করতে হবে না।

আর যদি সিজদা থেকে উঠার পর একেবারে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পূর্বে বিষয়টি স্মরণ হয়, তাহলে ফিরে যাবে এবং বসে গিয়ে তাশাহ্হুদ পড়ে নেবে। এরপর নামাজ পূর্ণ করে নেবে এবং সালামের পর সিজদায়ে সাহু দেবে।আর যদি সম্পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পূর্বে স্মরণ হয়, তাহলে তাশাহ্হুদ পড়ার প্রয়োজন হবে না। বরং সে এভাবেই নামাজ সম্পন্ন করে নেবে এবং সিজদায়ে সাহু দেবে।

এর দলিল আবদুল্লাহ ইবনে বুহাইনা রাযি. এর হাদীস যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে নিয়ে যোহরের নামাজ পড়লেন। তিনি না বসে দাঁড়ানো অবস্থায় প্রথম দু রাকত আদায় করলেন। মানুষও তাঁর সাথে দাঁড়াল। তিনি যখন নামাজ শেষ করলেন, আর মানুষ তাঁর সালাম ফেরানোর অপেক্ষায়, তখন তিনি বসা অবস্থায়, তাকবীর দিলেন এবং সালাম ফেরানোর পূর্বেই দুটি সিজদা করলেন। এরপর সালাম ফেরালেন।»(বর্ণনায় বুখারী)

সিজদায়ে সাহুর বিবরণ

মুসল্লী ডান দিকে এক সালাম ফেরাবে, এরপর ঠিক নামাজের সিজদার ন্যায় সিজদা দেবে। তাশাহ্হুদ, দরুদ ও দুআ পড়বে। পরিশেষে সালাম দিয়ে বের হয়ে যাবে।

মাসায়েল

১- মুসল্লী যদি নামাজ সম্পন্ন করার আগেই সালাম ফিরিয়ে দেয় এবং বেশ কিছু সময় চলে যাওয়ার পর তা মনে করতে পারে, তাহলে পুনরায় নামাজ পড়তে হবে। আর যদি সামান্য সময় পর মনে করতে পারে, যেমন দুই তিন মিনিট, তাহলে নামাজ সম্পন্ন করে নেবে এবং সিজদায়ে সাহু দিয়ে নেবে।

২- মুকতাদীর উচিত সিজদায়ে সাহুতে ইমামের অনুকরণ করা যদিও সে সাহু বা ভুল হওয়ার পর নামাজে শরীক হয়।

৩- মুসল্লীর যদি দুটি সাহু একত্রিত হয়, যার একটি অনুযায়ী সালামের পূর্বে এবং অপরটি অনুযায়ী সালামের পরে সিজদায়ে সাহু দেয়া আবশ্যক হয়, তাহলে সালামের পূর্বে একবার সিজদায়ে সাহু আদায় করলেই চলবে।

দ্বিতীয়ত: সিজদায়ে শোকর

সিজদায়ে শোকর শরীয়তভুক্ত হওয়ার দলিল আবু বাকরা রাযি. এর হাদীস- যখন কোনো খুশীর বিষয় আসত অথবা কোনো সুসংবাদ দেওয়া হত তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশে সিজদারত হতেন।(বর্ণনায় আবু দাউদ)

সিজদায়ে শোকরের পদ্ধতি

তাকবীর দিয়ে সিজদায় যাবে এবং বলবে, « سبحان ربي الأعلى» অতঃপর প্রাপ্ত নিয়ামতের জন্য আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করবে। এরপর তাকবীর ব্যতীতই সিজদা থেকে উঠবে এবং শেষে সালাম ফেরানোরও কোনো বিধান নেই।

সিজদায়ে শোকর

কোনো নিয়ামত অর্জন হলে অথবা কোনো খুশীর সংবাদ পেলে

নামাজে সিজদায়ে শোকর

নামাজরত অবস্থায় যদি কোনো খুশীর সংবাদ আসে এবং নামাজের ভিতরেই শোকর আদায়ের সিজদা প্রদান করে, তবে তার নামাজ বাতিল বলে গণ্য হবে; কেননা সিজদায়ে শোকরের নামাজের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

তৃতীয়ত: তিলাওয়াতের সিজদা

ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকটে সিজদাবিশিষ্ট সূরা তিলাওয়াত করতেন। অতঃপর তিনিও সিজদা দিতেন, আমরাও সিজদা দিতাম।»(বর্ণনায় বুখারী)

যখন কুরআন তিলাওয়াতকারী নামাজে কোনো সিজদার

আয়াত তিলাওয়াত করে- হোক তা প্রকাশ্য কিরাতের নামাজ বা অপ্রকাশ্য কিরাতের- অথবা নামাজের বাইরে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে তখন সিজদা দেয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর তিলাওয়াতের সিজদার জন্য অজু থাকা জরুরি।

সিজদায়ে তিলাওয়াতের পদ্ধতি

তিলাওয়াতকারী অথবা শ্রোতা তাকবীর বলে সিজদায় চলে যাবে এবং বলবে, سبحان ربي الأعلى

এরপর বলবে:

سجد وجهي للذي خلقه، وشق سمعه وبصره بحوله وقوته اللهم اكتب لي بها عندك أجراً، وضع عني بها وزراً، واجعلها لي عندك ذُخراً، وتقبلها مني كما تقبلتها من عبدك داود

এরপর তাকবীর দেবে এবং সিজদা থেকে উঠবে। আর যদি নামাজের বাইরে থাকে তাহলে তাকবীর দেবে না এমনকী সালামও ফেরাবে না।
(বর্ণনায় তিরমিযী)

সিজদায়ে তিলাওয়াত

কুরআন তিলাওয়াতকারী সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার ফলে যে সিজদা দিয়ে থাকে, তাকেই সিজদায়ে তিলাওয়াত বলে।

সিজদার আয়াতসমূহ

সূরা আলিফ লাম আস্ সিজদা, আয়াত নং (১৫)

সূরা আল আরাফ, আয়াত নং (২০৬)

সূরা সাদ, আয়াত নং (২৪)

সূরা আর রা»দ, আয়াত নং (১৫)

সূরা ফুসসিলাত, আয়াত নং (৩৭)

সূরা আন নাহল, আয়াত নং (৪৯)

সূরা আন নাজম, আয়াত নং (৬২)

সূরা আল ইসরা, আয়াত নং (১০৭)

সূরা আল ইনশিকাক, আয়াত নং (২১)

সূরা মারয়াম, আয়াত নং (৫৮)

সূরা আন নামল, আয়াত নং (২৫)

সূরা আল হাজ্জ, আয়াত নং (১৮)

সূরা আল আলাক, আয়াত নং (১৯)।

সূরা আল ফুরকান, আয়াত নং (৬০)

মাসায়েল

১- যদি মুসাফির ব্যক্তি যানবাহনের উপর থাকাবস্থায় সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে, তবে তার উচিত হবে নেমে গিয়ে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা। সম্ভব না হলে বাহনের উপরই মাথায় ইশারা করে সিজদা করে নেবে।

২- যদি তিলাওয়াতকারী একাধিকবার সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে, তাহলে একবার সিজদা করলেই যথেষ্ট হবে।

৩- নামাজ পড়ার নিষিদ্ধ সময়ে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা মাকরুহ।

৪- সিজদার আয়াত শ্রবণকারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াত শুনতে থাকে, আর যদি তিলাওয়াতকারী সিজদা না করে, তাহলে শ্রবণকারীকেও সিজদা দিতে হবে না; কেননা সে তিলাওয়াতে তিলাওয়াতকারীর অনুসারী।

৫- শোনার উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি সিজদার আয়াত শ্রবণ করল, যেমন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়, অথবা পাশে কোথাও তিলাওয়াত হচ্ছে অথচ তাতে তার মনোযোগ নেই, এমতাবস্থায়ও সিজদা করা আবশ্যক যদি তিলাওয়াতকারী মানুষ হয়ে থাকে। আর যদি যন্ত্র অথবা তোতাপাখি হয় তবে সিজদা করা আবশ্যক নয়।